শিরোনাম
ষ্টাফ রিপোর্টার : | ০১:০৩ পিএম, ২০২৬-০৮-১৭
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় যাওয়ার একমাত্র সেতুটি এখন ধসে পড়ার ঝুঁকিতে। সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় কেঁপে ওঠে সেতুটি। বিকল্প কোনো সড়ক যোগাযোগ না থাকায় ঝুঁকি জেনেও প্রতিদিন শত শত যানবাহন ও সাধারণ মানুষকে এই সেতু দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে। যেকোনো সময় সেতুটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয়রা।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের বসবাস। জেলা শহর নোয়াখালী থেকে সড়কপথে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এবং পরে নৌপথে আরও প্রায় ২০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে হাতিয়ায় পৌঁছাতে হয়। মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উপজেলার সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভূঁইয়ারহাট সংলগ্ন ৪ নম্বর স্টিমার ঘাট সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যত একমাত্র সড়ক সংযোগ।
দীর্ঘ সময় ধরে সেতুটির বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। ক্রমান্বয়ে বাড়তে বাড়তে সেতুটি এখন চলাচলের অনুপযোগী । অনেক স্থানে কংক্রিট খসে পড়ে ভেতরের রড বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয়রা জানায়, গত ৩১ জানুয়ারি হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট-নলচিরা নৌপথে ফেরি চলাচল শুরুর পর সেতু দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকসহ ভারী যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। এর পর থেকেই সেতুটির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায় , ১৪৯ মিটার দীর্ঘ সেতুটিতে মোট ৪২টি পিলার রয়েছে। এর মধ্যে ২০টিরও বেশি পিলারে বিভিন্ন ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। পিয়ারক্যাপ ও গার্ডারের মাঝামাঝি থাকা বিয়ারিং প্যাডগুলোও দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর হয়ে আছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যেও নিয়মিত পণ্যবাহী ট্রাক, পিকআপ, বাস ও অন্যান্য যানবাহন সেতুটি দিয়ে চলাচল করছে।
সেতুটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) দুই পাশে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করেছে। সেখানে পাঁচ টনের বেশি ওজনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্দেশনা উপেক্ষা করে ১৫ থেকে ২০ টন ওজনের পণ্যবাহী যানবাহনও নিয়মিত সেতুটি পার হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কাশেম বলেন, সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয়। এটি ভেঙে পড়লে হাতিয়ার প্রায় সাত লাখ মানুষের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
সিএনজি চালক হানিফ বলেন, যাত্রী নিয়ে সেতু পার হওয়ার সময় সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়,না জানি কখন কি হয়! বিকল্প কোনো রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয় কলেজশিক্ষার্থী মো. আরমানের ভাষ্য, সেতুটি শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়; হাতিয়ার অর্থনীতি, শিক্ষা ও চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গেও এটি সরাসরি যুক্ত। সেতুটি বন্ধ হয়ে গেলে পুরো উপজেলার মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, হাতিয়ার বাজারে পণ্য আনা-নেওয়া অনেকটাই এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। সেতুটি বন্ধ হয়ে গেলে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হবে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বেড়ে যেতে পারে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০০৩ সালে তা শেষ হয়। বর্তমানে সেতুটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে রয়েছে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নোয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, সেতুটির অবস্থা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দ্রুত সময়ের মধ্যে সাময়িক সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি সেখানে নতুন একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, সাময়িক সংস্কারের পাশাপাশি দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। কারণ, বিকল্প সড়ক যোগাযোগ না থাকায় বর্তমান সেতুটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হলে হাতিয়ার সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় কেক কাটা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিশেষ আইনশৃঙ্খলা ও প্রস্তুà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক | হাতিয়া চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজী মুহম্মদ মহসিন সরকাà...বিস্তারিত
ষ্টাফ রিপোর্টার : : হাতিয়া প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র প্রদর্শন করে রিলস ...বিস্তারিত
ষ্টাফ রিপোর্টার : : হাতিয়া প্রতিনিধি: ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্...বিস্তারিত
ষ্টাফ রিপোর্টার : : হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি নোয়াখালীর হাতিয়ায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা জাগলার চরে বন বিভাগের জমি ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Daily Hatiya Times | Developed By Biplab Uddin