শিরোনাম
নিজস্ব প্রতিবেদক | ০২:২৪ এএম, ২০২৬-০৮-১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক, হাতিয়া:
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ নদীভাঙন ক্রমেই চরম আকার ধারণ করছে। মেঘনা নদীর ভাঙনে প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদী তীরবর্তী এলাকার হাজারো মানুষ। অনেক পরিবার ইতোমধ্যে হারিয়েছে তাদের শেষ আশ্রয়স্থল ও জীবিকার প্রধান অবলম্বন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা নদীতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলকারী দেশি-বিদেশি তেলের ট্যাংকার ও ভারী জাহাজের সৃষ্ট শক্তিশালী ঢেউ নদীতীরের ভাঙনকে আরও তীব্র করে তুলছে। বড় জাহাজগুলো নদীর তীর ঘেঁষে চলাচলের সময় সৃষ্ট ঢেউ আছড়ে পড়ছে তীরবর্তী এলাকায়। এতে নরম মাটির তীর দ্রুত ধসে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
বিশেষ করে হাতিয়ার ‘কুলহারা দুই চর’ এলাকায় নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে অনেক পরিবার এখন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ ঘরবাড়ি সরিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার অনেকে শেষ সম্বলটুকু আঁকড়ে ধরে নদীর তীরেই বসবাস করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ভাঙন প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে অদূর ভবিষ্যতে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তারা দ্রুত ব্লক বাঁধ নির্মাণ, নদীতীর সংরক্ষণ এবং জাহাজ চলাচলের কারণে সৃষ্ট ঢেউয়ের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নদীভাঙনের ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ। তিনি দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত ব্লক বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন ঠেকাতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এমপি হান্নান মাসুদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্বীপবাসীর অস্তিত্ব রক্ষায় দ্রুত ব্লক বাঁধ নির্মাণ করে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া না হলে হাতিয়ার নৌপথ ব্যবহার করে চট্টগ্রাম বন্দরগামী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা।
তার এমন বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হাতিয়ায় নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে একদিকে যেমন ক্ষোভ বাড়ছে, অন্যদিকে দ্বীপের মানুষের জীবন-জীবিকা ও বসতভিটা রক্ষায় দ্রুত সরকারি পদক্ষেপের প্রত্যাশাও জোরালো হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, নদীভাঙন এখন শুধু কয়েকটি পরিবারের সমস্যা নয়; এটি পুরো দ্বীপের অস্তিত্ব ও ভবিষ্যতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। তাই ভাঙন রোধে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, নদীতীর সংরক্ষণ এবং নৌযান চলাচলের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
হাতিয়াবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে নদীভাঙনের পরিধি আরও বাড়তে পারে। এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি, বসতভিটা ও স্থানীয় অবকাঠামো মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। তাই দ্বীপবাসীর নিরাপত্তা ও অস্তিত্ব রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি এখন সর্বস্তরে জোরালো হয়ে উঠেছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক : নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় কেক কাটা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে গণঅধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠাবার্ষ...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বিশেষ আইনশৃঙ্খলা ও প্রস্তুà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজস্ব প্রতিবেদক | হাতিয়া চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজী মুহম্মদ মহসিন সরকাà...বিস্তারিত
ষ্টাফ রিপোর্টার : : হাতিয়া প্রতিনিধি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে দেশীয় বিভিন্ন অস্ত্র প্রদর্শন করে রিলস ...বিস্তারিত
ষ্টাফ রিপোর্টার : : হাতিয়া প্রতিনিধি: ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্...বিস্তারিত
ষ্টাফ রিপোর্টার : : হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি নোয়াখালীর হাতিয়ায় মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা জাগলার চরে বন বিভাগের জমি ...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Daily Hatiya Times | Developed By Biplab Uddin