শিরোনাম
ষ্টাফ রিপোর্টার : | ১১:৪৫ পিএম, ২০২৬-০৮-২৩
দেড় যুগের বেশি সময় যে কার্যালয় ছিল রাজনৈতিক ঠিকানা, সেই নয়াপল্টন থেকেই এবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব শুরু করলেন রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় আন্দোলন, গ্রেপ্তার, মামলা ও কারাবাস পেরিয়ে দলের শীর্ষ সাংগঠনিক দায়িত্বে তার এই উত্থানকে দেখছেন নেতাকর্মীরা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টন। দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যালয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে রুহুল কবির রিজভী আহমেদের রাজনৈতিক জীবন। কখনো দপ্তর, কখনো যুগ্ম মহাসচিব, আবার কখনো সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা, সংবাদ সম্মেলন, বিবৃতি প্রদান এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন বিএনপির অন্যতম পরিচিত মুখ।
দলের কঠিন বিরোধী রাজনৈতিক সময়ে পুলিশি অভিযান, গ্রেপ্তার, মামলা কিংবা অবরোধ—কোনোটিই তাকে নয়াপল্টনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দীর্ঘ সময় দূরে রাখতে পারেনি। বরং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকেই নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন তিনি।রিজভীর সঙ্গে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সম্পর্কের সবচেয়ে আলোচিত অধ্যায়গুলোর একটি হলো দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান ও রাত্রিযাপন।
২০১৮ সালের ৩০ জানুয়ারি থেকে টানা নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান শুরু করেন তিনি। খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং দলের রাজনৈতিক সংকটের সময়ে বিএনপির কার্যক্রম সচল রাখতেই তিনি কার্যালয়কে নিজের রাজনৈতিক ঠিকানায় পরিণত করেন।
প্রায় ৭৮৭ দিন বাসা ও স্বজনদের কাছ থেকে দূরে থেকে দলীয় কার্যালয়েই অবস্থান করেন রিজভী। ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়া মুক্তি পাওয়ার পর তিনি বাসায় ফিরে যান।
এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে নয়াপল্টন থেকেই তিনি দলীয় কর্মসূচি ঘোষণা, সংবাদ সম্মেলন, গণমাধ্যমে বক্তব্য এবং নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের কাজ চালিয়ে যান।
আন্দোলন-সংগ্রাম ও গ্রেপ্তারের স্মৃতি
রিজভীর রাজনৈতিক জীবনে নয়াপল্টন যেমন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র, তেমনি এটি তার আন্দোলন-সংগ্রাম ও গ্রেপ্তারেরও সাক্ষী।
২০১৩ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির আন্দোলনের সময় প্রায় দুই মাস নয়াপল্টন কার্যালয়ে অবস্থান করেন তিনি। পরে সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপরও বিভিন্ন সময়ে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নয়াপল্টন কার্যালয়ে অবস্থান করেছেন রিজভী। ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশকে কেন্দ্র করে ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে পুলিশের অভিযানের পরও তিনি গ্রেপ্তার হন।
ফলে নয়াপল্টনের সঙ্গে রিজভীর সম্পর্ক শুধু একটি রাজনৈতিক কার্যালয়ের নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, মামলা, গ্রেপ্তার ও প্রতিকূলতার অসংখ্য স্মৃতি।
নয়াপল্টনেই নতুন দায়িত্ব
২০ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিএনপির মহাসচিবের পদ শূন্য হয়। একই দিন দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী আহমেদকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করে বিএনপি।
দলের গঠনতন্ত্রের ৭(খ-৬) ধারা অনুযায়ী এই মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় ২৩ আগস্ট নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন রিজভী। সকালে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বেলা ১১টার দিকে নয়াপল্টনে নিজের দপ্তরে বসেন তিনি।
যে কার্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে বছরের পর বছর বিএনপির কর্মসূচি ও অবস্থান দেশবাসীর সামনে তুলে ধরেছেন, এবার সেই একই কার্যালয়ে বসেই তাকে দলের সামগ্রিক সাংগঠনিক নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।
ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে
রিজভীর রাজনৈতিক পথচলার শুরু ছাত্ররাজনীতিতে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক এবং পরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
১৯৮৯ সালের রাকসু নির্বাচনে ভিপি নির্বাচিত হন রিজভী। সে সময় এরশাদবিরোধী আন্দোলনেও সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে আহত হওয়ার ঘটনাও তার রাজনৈতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
১৯৯২ সালের ১৬ জুন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলে ভোটের মাধ্যমে সংগঠনটির সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। এরপর স্বেচ্ছাসেবক দল এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ধীরে ধীরে তার অবস্থান শক্ত হয়।
দীর্ঘ বিরোধী রাজনৈতিক সময়ে মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবাস তার রাজনৈতিক জীবনের অংশ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে দলীয় কার্যালয়কেন্দ্রিক কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির রাজনীতিতে তিনি হয়ে ওঠেন সবচেয়ে দৃশ্যমান নেতাদের একজন।
দপ্তরকেন্দ্রিক রাজনীতি থেকে স্থায়ী কমিটি
রিজভীর রাজনৈতিক উত্থানের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে বিএনপির দপ্তরকেন্দ্রিক দায়িত্ব।
২০১৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পান। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে দলীয় কর্মসূচি, সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত এবং গণমাধ্যমে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর তিনি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্বও পান। এরপর ১৫ আগস্ট তাকে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য করা হয়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এবার আসে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব।
অর্থাৎ অল্প সময়ের মধ্যেই তার রাজনৈতিক অবস্থানে বড় পরিবর্তন এসেছে—সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব থেকে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, এরপর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের বক্তব্যে রিজভীর মধ্যে এক ধরনের দায়িত্ববোধ ও আত্মসংশয়ের প্রকাশও দেখা গেছে। এত বড় দায়িত্ব তিনি কতটা সফলভাবে পালন করতে পারবেন, তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন তিনি।
তবে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন বিশ্লেষণ করলে তার এই বক্তব্যকে নিজের সক্ষমতা নিয়ে সংশয়ের পাশাপাশি দায়িত্বের গুরুত্ব উপলব্ধির প্রকাশ হিসেবেও দেখা যায়।
প্রায় চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে ছাত্ররাজনীতি, রাজপথের আন্দোলন, দলীয় কার্যালয়ে প্রতিকূল সময় মোকাবিলা এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব—প্রতিটি পর্যায়েই রিজভীর সরব উপস্থিতি ছিল।
বিরোধী দল থেকে সরকারে আসার পর বিএনপির রাজনৈতিক বাস্তবতাও বদলে গেছে। ফলে নতুন দায়িত্বে রিজভীর সামনে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ।
তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করা, দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে সক্রিয় রাখা এবং সরকার ও দলের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা—এসব বিষয় তার দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।
এতদিন যে নেতা বিরোধী দলের কর্মসূচি, আন্দোলন ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নিয়মিত সংবাদমাধ্যমের সামনে দাঁড়িয়েছেন, এখন তাকেই সরকারে থাকা দলের সাংগঠনিক বাস্তবতা সামলাতে হবে।
নয়াপল্টনেই বদলে গেল ভূমিকা
রুহুল কবির রিজভীর রাজনৈতিক উত্থানের গল্পে নয়াপল্টন যেন একটি আলাদা অধ্যায়। যে ভবনের একটি কক্ষে বসে তিনি বছরের পর বছর দলের বক্তব্য তুলে ধরেছেন, আন্দোলন-সংগ্রামের সময়ে নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রেখেছেন, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন—এবার সেই ভবনেই বসে তাকে নিতে হবে বিএনপির সামগ্রিক সাংগঠনিক নেতৃত্বের ভার।
গুলি থেকে রাজপথ, রাজপথ থেকে রাকসুর ভিপি; ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে বিএনপির দপ্তর; দপ্তর থেকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব; এরপর জাতীয় স্থায়ী কমিটি—আর সবশেষে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের চেয়ার।
রুহুল কবির রিজভীর এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় নয়াপল্টন যেমন তার কর্মক্ষেত্র ছিল, তেমনি ছিল সংগ্রামের ঠিকানা। এবার সেই নয়াপল্টন থেকেই শুরু হলো তার রাজনৈতিক জীবনের নতুন অধ্যায়।
নাসির আহমাদ রাসেল : ঢাকায় গুলশান-১ এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৩২ জনকে গ্রেà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের তরুণ সমাজের অধিকার, গণতন্ত্র ও ছাত্র অধিকার পরিষদের কৌটা সংস্কার আন্দোলনের ধারায় ২০২০ সà...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : মেগা প্রকল্পের নামে সরকার দেশে মেগা দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেছেন আব্দুল হান্নান মà¦...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বà...বিস্তারিত
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়া একটি বহুল আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ নাম। দেশের সাবেক প্রধা...বিস্তারিত
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০১৯ - © 2026 Daily Hatiya Times | Developed By Biplab Uddin